দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঘটনায় রাশিয়া লক্ষ্য নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য বা উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করেছে কি না, তা তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো জানায়, হামলায় রাশিয়ার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তবে হামলার কার্যকারিতা, লক্ষ্যভেদে নির্ভুলতা এবং ইরানকে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত সহায়তাকে সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি রয়টার্স জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলায় রাশিয়া লক্ষ্য নির্ধারণসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও এ ধরনের সহায়তার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে সিআইএর স্থাপনাগুলোতে হামলায় রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তদন্তের তথ্য এবারই প্রথম প্রকাশ্যে এসেছে।
রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে অন্তত দুটি সিআইএ স্থাপনায় হামলা হয়। এর একটি ছিল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে অবস্থিত সিআইএ স্টেশন। অন্যটি ছিল ইরাকের পূর্বাঞ্চলের একটি স্থাপনা। কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, আরও কিছু সিআইএ স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে, তবে সেগুলোর অবস্থান বা সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
অঞ্চলটির এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ স্মারকে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক সিআইএ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য নির্ধারণে রাশিয়ার ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে স্মারকটির প্রস্তুতকারী সংস্থার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা, যারা গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে অবহিত, জানান, বিশ্লেষকদের ধারণা, সৌদি আরবে হামলায় রাশিয়ার উন্নত প্রযুক্তিসংবলিত ইরানের দুটি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল। তাদের দাবি, একটি ড্রোন দূতাবাস ভবনের বাইরের অংশে একটি ছিদ্র তৈরি করে এবং দ্বিতীয়টি সেই ছিদ্র দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় কেউ নিহত বা আহত হননি।
সূত্রগুলোর মতে, রাশিয়া বহুদিন ধরেই ইরানকে সহায়তা করে আসছে। তবে সিআইএর মতো স্পর্শকাতর স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করতে সহায়তা করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম ব্যাহত করতে মস্কোর আরও সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত হতে পারে।
সম্প্রতি জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুটি সেনা সদস্য নিহত হওয়ার পর রাশিয়া ইরানকে লক্ষ্য নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য দিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস বিষয়টি সিআইএর কাছে পাঠায়। তবে সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরব সরকারও মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।
অঞ্চলটির দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানান, রাশিয়ার সহায়তায় ইরান তাদের শাহেদ ড্রোনের লক্ষ্যভেদ সক্ষমতা বাড়িয়েছে। আরেকটি সূত্রের দাবি, রাশিয়া ইরানকে ‘কোমেতা-এম’ নামে একটি উপগ্রহভিত্তিক দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে, যা ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থার তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল এবং সহজে বাধাগ্রস্ত করা যায় না।
মার্চ মাসে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এ তথ্য প্রকাশ করলেও ক্রেমলিন তা অস্বীকার করে একে ‘ভুয়া খবর’ বলে দাবি করেছিল।
সূত্রগুলো জানায়, ইরানি হামলায় ঠিক কতটি সিআইএ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা সেগুলোর অবস্থান কোথায়, তা প্রকাশ করা হয়নি। একটি সূত্রের ভাষ্য, হামলার শিকার স্থাপনার সংখ্যা ‘একটির বেশি, তবে এক ডজনের কম’। আরেকটি সূত্র জানায়, কয়েকটি স্থাপনা হামলার মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা এখন খতিয়ে দেখছেন, রিয়াদে দূতাবাসে হামলার ক্ষেত্রে ইরান রাশিয়ার দেওয়া লক্ষ্য নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করেছিল কি না। তবে কিছু সূত্র সতর্ক করে বলেছে, ইরানের লক্ষ্য হয়তো পুরো যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসই ছিল এবং ঘটনাক্রমে সিআইএ স্টেশনটি আঘাতের শিকার হয়েছে।
কিছু বিশ্লেষকের মতে, রাশিয়া ছাড়া খুব কম দেশই এমন স্পর্শকাতর লক্ষ্য নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার সক্ষমতা ও আগ্রহ রাখে।
সিআইএর সাবেক স্টেশন প্রধান ও আন্ডারকভার কর্মকর্তা ড্যানিয়েল হফম্যান বলেন, ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদারত্বের কারণে মস্কো তেহরানকে সিআইএর স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করতে সহায়তা করলে তা বিস্ময়কর হবে না। তার ভাষায়, ‘নিজ নিজ প্রভাব বলয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমিয়ে আনা বা পুরোপুরি দূর করার অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে দুই দেশের।’
/অ